স্মার্ট ফোনের সুবিধা এবং অসুবিধা

সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের মনোবল মানুষের শক্তি মানুষের বুদ্ধি মাত্রা। প্রাচীনকালের সেই ব্যবস্থাপনা সেই ব্যবহারিক কারুকার্য যে সমস্ত প্রচলন ছিল তা বর্তমানে একদমই চলে না। একটা সময় ছিল যখন মানুষ স্মার্টফোন কিংবা হ্যান্ডসেট এগুলো কিছুই চিনত না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এখন ১ বছরের ছোট্ট শিশুটিও স্মার্টফোনে কার্টুন না দেখালে খাবার খেতে চায় না।

হ্যালো বন্ধুগণ আমি আছি আপনাদের সাথে সাইফুল ইসলাম। আজকে এই আর্টিকেলের মধ্যে আমরা আলোচনা করব স্মার্ট ফোনের সুবিধা এবং অসুবিধা গুলো। আমরা সবাই জানি যে, প্রত্যেকটা জিনিসের দুটো দিক রয়েছে একটি ভালো এবং একটি মন্দ। অনুরূপভাবে আপনার হাতে যে স্মার্টফোন রয়েছে সেটার মধ্যেও দুটি দিক রয়েছে তবে সে দুটি দিকের পরিবর্তন হতে পারে।

তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই স্মার্টফোনের সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত। স্মার্টফোন নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বর্তমানে অনেক বেশী কষ্টকর তাই এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।

স্মার্ট ফোনের সুবিধা কি?

বর্তমান সমাজে স্মার্টফোন বিহীন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব বেশি কষ্ট করে। ছোট-বড় সবার কাছেই রয়েছে নামিদামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন। সবাই যেন স্মার্টফোনের নাগালে এখন শিহরিত। আবার কারো কারো কাছে রয়েছে বিভিন্ন বড় বড় ব্রান্ডের ফোন গুলো। কিছু কিছু মানুষ যারা এ স্মার্ট ফোনের মধ্যেই সব সময় ডুবে থাকে তাদের জন্য স্মার্টফোনের বাইরে কোনো কাজই থাকে না।

আবার স্মার্টফোন দিয়ে অফিশিয়াল কাজ করে অফিসের সময় বাঁচাচ্ছে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন গেম রয়েছে যেগুলো স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্লে করা যাচ্ছে। এক কথায় স্মার্টফোনের ব্যবহার অপরিসীম।

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিমিষেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে এমনকি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষদের দেখা যাচ্ছে তাদের খবরাখবর নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত স্মার্টফোনের মাধ্যমে। টেকনোলজি এত বেশি আপগ্রেড হয়েছে যে আমরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে চাইলে আমাদের রুম গুলো কে পরিচালনা করতে পারি।

স্মার্টফোন শুধু কথা বলার জন্য সীমাবদ্ধ নয় এখানে রয়েছে সিনেমা দেখা সহ আরও হাজার ধরনের সুযোগ-সুবিধা। স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে মানুষ নিজের বিজনেস কে আরো বেশি গ্ৰো করে নিচ্ছে। স্মার্ট ফোনের ব্যবহারের ফলে মানুষ দৈনন্দিন জীবনে আরো বেশি স্মার্ট হচ্ছে।

স্মার্টফোন শুধু মানুষের ক্ষতি করে এমনটি নয় এটি কেবল মাত্র একটি বস্তু এটা থেকে সব দিকে কন্ট্রোল করা যাবে এখন সম্পূর্ণ বিষয়টি আপনার উপর যে আপনি কোন কাজে এটি ব্যবহার করেন। আপনি যদি ভালো কাজ এটি ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে ভালো দিকে চলবে আপনি যদি খারাপ কাজে ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে এটি খারাপ।

স্মার্ট ফোন ব্যবহারের অসুবিধা?

আমরা যদি চারো দিকে একটু চোখ ঘুরিয়ে দেখি তাহলে দেখব বেশিরভাগ স্টুডেন্টদের হাতে রয়েছে নামিদামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন। পূর্বে আমরা আলোচনা করেছি যে স্মার্টফোন মানুষ যেভাবে পরিচালনা করে ঠিক সেভাবেই পরিচালিত হয় তাই এই এটাকে সঠিক ব্যবহার করলে এটার সঠিক ব্যবহারই আমার কাছে হবে তবে আমি যদি এটা দিয়ে সঠিক ব্যাবহার না করি তাহলে এটা দিয়ে সঠিক ব্যবহার হবে না।

এছাড়াও, ছোট যে বাচ্চা রয়েছে তারা দেখবেন খাবার সময় স্মার্টফোনে কার্টুন সহ বিভিন্ন সিনেমা না দেখলে কেটে যাচ্ছে না, এছাড়া স্মার্টফোন হওয়াতে কোনো কাজ না থাকার পরেও মানুষ এটা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত হয়ে পড়ে থাকে। নিজের গুরুত্বপূর্ণ সময় গুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজের পিছনে ইনভেস্ট করতে ভুলে যায় এ স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলে।

►► চুল গজানোর উপায়
►► আপেল সিডার ভিনেগার

আবার কেউ কেউ এ স্মার্টফোনের জন্য নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোকে পরিহার করে। বিভিন্ন বড় বড় নামিদামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ব্যবহার করার জন্য এখন তরুণ সমাজের জন্য খুবই প্রয়োজন তাই সবাই আহামরি হয়ে পড়ছে নামিদামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ব্যবহার করাতে।

এছাড়াও লক্ষ করলে দেখা যাবে এখন ছোট-বড় সবার হাতেই রয়েছে স্মার্টফোন যা মানুষ বিভিন্ন অবৈধ কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইউটিউব গুগল এবং ফেসবুকের সহায়তা নিয়ে মানুষ বিভিন্নভাবে ক্রাইম সহ বিভিন্ন অসৎ পথে নিজের মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট করছে।

স্মার্টফোনকে খারাপ ভাবে ব্যবহার করে নিজের জীবনকে অনেকেই নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার এটির সঠিক ব্যবহার না জেনে অনেকে নিজের এ স্মার্টফোনটিকে হারাতে বসেছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে যে সকল গেমসগুলো খেলা হয়ে থাকে সেই সকল গেমসগুলোর পেজ পিছনে অধিকাংশ তরুণ-তরুণীরা আহামরি হয়ে ছুটেছে যেখানে তাদের না গেলেই নয়।

২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে স্মার্টফোনের ব্যবহারের ফলে চোখের পাওয়ারসহ শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে মানুষ। দীর্ঘ রাত পর্যন্ত স্মার্ট ফোন চালানোর ফলে চোখের লেন্স খারাপ হয়ে যেতে পারে। স্মার্ট ফোন বুক পকেটে রাখার ফলে নিজের ফুসফুসের উপর খারাপ প্রভাব আসতে পারে বলে জানান বৈজ্ঞানিকগণ।

স্মার্ট ফোন থেকে দূরত্ব বজায় রাখা!

স্মার্টফোন সবার কাছে এখন একটি নেশার মতো হয়ে গেছে এবং ছোট-বড় সবার কাছেই এটি রয়েছে তাই স্মার্টফোন বিহীন মানুষ খুঁজে পাওয়া বর্তমানে অনেক বেশী কষ্টকর বটে। আপনি চাইলেই এখন স্মার্টফোন বিহীন মানুষ খুঁজে পাবেন না যদিও খুব কম সংখ্যক মানুষ থাকতে পারে।

চাইলে যেকোন মানুষকে স্মার্ট ফোন থেকে সরে আসতে পারে না। প্রত্যেকটা নেশা শরীরের রক্ত এবং মাংসের মধ্যে প্রতিফলিত হয়ে থাকে এবং এই নেশা গুলো থেকে নিজেকে বের করার জন্য চাইলেই নিমিষে সেটা কার্যকর হয় না এটি কার্যকর হতে লম্বা একটি সময়ের প্রয়োজন হয়।

স্মার্টফোন থেকে নিজেকে দূরে রাখার পসিবিলিটি খুবই কম কেননা স্মার্টফোন শুধু খারাপ কাজে ব্যবহার হয় না এটি বিভিন্ন ভালো কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং পরিবার-পরিজনদের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য স্মার্ট ফোন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য যখন স্মার্ট ফোন ব্যবহার করা হয় তখন অন্যান্য দিক গুলো মাথায় ঘুরে যার জন্য স্মার্টফোনের ব্যবহার দীর্ঘ সময় হয়ে পড়ে।

►► চুল গজানোর উপায়
►► আপেল সিডার ভিনেগার

সর্বোপরি: স্মার্ট ফোন থেকে চাইলে যেকোন মানুষ নিমিষেই লিভ নিতে পারেনা। স্মার্টফোন থেকে মানুষ লিভ নিতে হলে আদিম যুগে ফিরে যেতে হবে। সেই প্রাচীন কালে ফিরে যাওয়া যেভাবে সম্ভব না অনুরূপভাবে স্মার্টফোনকে ট্যাগ করা এতটা সহজ নয়। চাইলেই কোন মানুষের পক্ষে স্মার্টফোনকে মুহূর্তেই ক্রমাগত ত্যাগ করা সম্ভব না।

সর্বশেষ

যেহেতু প্রত্যেকটা জিনিসের ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে তাই প্রত্যেকটা জিনিসের ভালো ব্যবহার গুলো আমাদের করা উচিত এবং এটা সম্পূর্ণ আমার উপর ডিপেন্ড করে কেননা একটা স্মার্টফোনের মালিকানা যদি কেবলমাত্র আমি থাকি সে ক্ষেত্রে সেটি কিভাবে পরিচালিত হবে সেটা কেবলমাত্র আমি ডিফেন্ড করে থাকি।

আমি যদি আমার স্মার্ট ফোন দিয়ে ভাল কাজ করি তাহলে সেটা ভালো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং আমি যদি আমারে স্মার্টফোনটি দিয়ে খারাপ কাজ করে তাহলে সেটা খারাপ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বন্ধুরা তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে স্মার্ট ফোন থেকে মানুষ খারাপ হয় না যদি সে স্মার্টফোনকে ভালো কাজে ব্যবহার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.