একটি ভালবাসার শেষ ঠিকানা!

আজকের গল্পের নাম একটি ভালবাসার শেষ ঠিকানা। হয়তো সব ভালোবাসা একদিন শেষ হয়ে যায় সেটা কারো শুরুতে কারো শেষে কিন্তু একদিন এটাকে শেষ হতেই হয় কারণ ভালোবাসা কারো চির বৃদ্ধ নয় এটা শেষ হবার ই।

আমার নাম ইসমাইল আমি তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। তখন আমার হাতে একটা ফোন ছিল যার মডেল ১২০০ বুঝতেই পারছেন নাকি একটি নোকিয়া মোবাইল। নোকিয়া মোবাইল হলেও এটা দিয়া আমার খুবই ভাল লাগত আর তখনকার সময়ে এ স্মার্টফোন তেমন এভেলেবেল ছিল না। দু একজন মানুষের কাছে স্মার্টফোন ছিল যারা ধনী ব্যক্তি অথবা বাবার অনেক টাকা আছে তাদের।

অবশ্য আমরা মধ্যবিত্ত। মধ্যবিত্ত বললে ভুল হবে সরকার নিম্নবিত্ত বলা যেতে পারে। কিন্তু শিক্ষিত আর মান সম্মান বাঁচাতে মধ্যবিত্তের অভিনয় করে বাঁচতে হচ্ছে আমাদের। শুধু আমি না আমার আরো দুটো ভাই এবং একটি বোন আছে যারা সবাই শিক্ষিত এবং আমি সবার ছোট। আমার লেখাপড়া এখানেই শেষ আমিন ভাই আমার লেখাপড়া চলছে তবে এর মধ্যে একটা স্বপ্ন বাধার পরিস্থিতি হয়ে গেল।

ক্লাসের মধ্যে আমি ছিলাম মোটামুটি ভালো লেখাপড়ার দিক থেকে, বাকি যে বন্ধুরা ছিল সবাই দুষ্টুমি করত সারাক্ষণ রীতিমতো ক্লাস এ আসলো আর তা ছাড়া কিছুই হতো না। সবাই নিজেদের আড্ডা আর দুষ্টুমি নিয়ে ব্যস্ত থাকত করেছে কিন্তু আমি সারাক্ষণ লেগে থাকতাম আমার লেখা পড়ার পেছনে। আমি চেষ্টা করতাম নিজের মতো করে কিছু একটা করার জন্য। আমি কখনো আমার চেষ্টায় কোমতি রাখেনি।

ভালোবাসা বলতে একটা অদ্ভুত জাদুর হয়েছে যেটা আমার সাথে হয়েছিল এবং আমি সেই চালু থেকে মুক্তি পাইনি। আমি যখনই কলেজে যাইতাম তখন বুঝতে পারতাম ইলমা নামের ওই মেয়েটি আমাকে অলওয়েজ ফলো করে। বিষয়টা আমি বুঝি কারো সাথে এ বিষয়ে আলাপ করি নি অথবা আমি বুঝেও না বোঝার ভান করে সব সময় কলেজে আসা যাওয়া করতাম।

আমি বুঝতে পারলাম প্রায় ২-৩ মাস ধরে আমাকে ফলো করেই যাচ্ছে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে হয়তো আমাকে কিন্তু আমি এগুলোতে অভ্যস্ত না হয় আমি পাত্তা দিচ্ছিলাম না। হয়তো আমার আশেপাশের বন্ধু-বান্ধব তারাও বুঝতে পারছে মেয়েটি/ ইলমা আমাকে ফলো করে। একদিন তো হঠাৎ করে ইব্রাহিম জিজ্ঞেস করে বসল যে দোস্ত একটা সত্যি কথা বলবি? আমি বললাম তোদের সাথে আমি কখনো মিথ্যা বলছি এমন প্রমাণ আছে। ইব্রাহিম বলল ইদানিং খেয়াল করলাম ইলমা তোকে ফলো করছে তোদের মধ্যে কোন প্রেম ভালোবাসার কাহিনী আছে নাকি?

একটি ভালবাসার শেষ ঠিকানা!

আমি বললাম ইব্রাহিম সব সময় মশকরা করবি’না। মানুষ মানুষের দিকে তাকাতেই পারে অথবা মানুষকে ফলো করতেই পারে এজন্য যে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক থাকতে হবে এমন তো কোন কথা নেই চিল্ড্রেন চুপ হয়ে বলল ঠিক আছে, বাদ দে। আমি বললাম তোর মাথায় রেজওয়ানের আজ গভীর প্রশ্ন কিভাবে আসে? ইব্রাহিম বলল আচ্ছা বাদ দে ভাই।

পরে কলেজে আসলাম এবং নিজের ক্লাস করলাম বাড়ি ফিরে গেলাম এভাবে বেশ কয়েকদিন কাটার পরে একদিন কলেজে ঢুকবো হঠাৎ করে খেয়াল করলাম ইলমা গেটের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে সাথে একজন বান্ধবী। আমি বুঝতে পারলাম হয়ত আমার সাথে কিছু একটা বলতে চাচ্ছি আমি পাত্তা না দিয়ে হাতে থাকা ফোনটি কানে নিয়ে কথা বলার ভান করে কলেজগেটে ঢুকত লাগলাম এর মধ্যে হাতে টান দিয়ে বললো দাঁড়াও তোমার সাথে কিছু কথা আছে।

►► আরো দেখো: জীবনের সাফল্য কোথায় থাকে?

আমিতো ব্যাকা চাকা হয়ে গেলাম। মেয়েরা এতটা বেয়াদব আর নির্লজ্জভাবে হতে পারে যে কলেজ গেটে দাঁড়িয়ে ছেলেদের হাত টান দিয়ে কথা বলতে হবে আমি হাত শিক্ষা দিয়ে বললাম এটা কি ধরনের আচরণ। সীমা তো বুঝতে পারছি আমি রাগান্বিত তাই হাত ছেড়ে দিয়ে বলল সরি আপনার সাথে একটু কথা বলতে চাচ্ছি। আমি বললাম এটা কি কোন কথা বলার প্লেস? ইলমা বলল ঠিক আছে একটা নির্দিষ্ট সময় দেন আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই। আমি বললাম ভেবে আপনাকে জানাবো, এখন আসতে পারেন।

খেয়াল করলাম ইলমা কাঁদো কাঁদো চোখে ওর বান্ধবীকে নিয়ে হেঁটে গেল বুঝতে পারলাম বান্ধবীর কাছে ও লজ্জা পেল এবং আমার কাছেও। কিন্তু কি করার আমি তো এই সব এ অভ্যস্ত না এবং আমি তো ওর সাথে কোন রিলেশনে আবদ্ধ হতে চাচ্ছি না কারণ এগুলো কোন ভাল মানুষ করে না সেটাও আমি বুঝতে পারি। আর প্রেম-ভালোবাসা এগুলো কেবলমাত্র একটা নেশার মত তাই এই নেশায় ডুব না দেয়াই ভালো মানুষের কাজ।

আমি প্রতিদিনের মত কলেজে আসা যাওয়া করতে লাগলাম এবং নিজের মতো করে লেখাপড়া কান্ট্রি নিউ করলাম। হঠাৎ করে আমার ফোনে কল আসলো তখন রাত ‘১১:২৬ পিএম’ যদিও আমি পড়তে ছিলাম তার পরেও কল ধরলে ওপাশ থেকে হ্যালো হ্যালো আওয়াজ আসছে ফিমেল ভয়েজ থেকে। হঠাৎ করে একটু চমকে গেলাম এখন আবার কোন মেয়ে কল দিল কেননা আমার ফোনে আজ অব্দি কোন রং নাম্বারে কল আসেনি এবং অযথা কোন মেয়েও কল কখনো দেয়নি।

সালাম দিয়ে বললাম তাকে চাচ্ছেন? ওপাশ থেকে বলল আপনি ইমরান ভাই না? আমি বললাম হ্যাঁ আপনি কে বলছেন? ওপাশ থেকে বলল আমি ইলমা বলছি আপনার সাথে একটু কথা বলতে চাচ্ছি প্লিজ ফোন কাটবে না! আমি বললাম এখানেও আপনি আছেন? ওপাশ থেকে ইলমা বলল আমি কি আপনাকে বেশি ডিস্টার্ব করে ফেললাম? আমি বললাম দেখুন আমি আসলে পড়তেছিলাম আপনার কিছু বলার থাকলে দ্রুত বলে ফেলুন।

একটি ভালবাসার শেষ ঠিকানা!

ওপাশ থেকে ইলমা বলল, আচ্ছা আপনি কি অনেক রাগী নাকি অনেক লজ্জাবতী? আমি বললাম দুটোর কোনটাই নয়। তবে এত রাতে একটা মেয়ের সাথে কথা বলাটা হয়তো কোনো ভালো ছেলের কাজ নাই এটা আপনি বুঝতে পারছেন। ইলমা বলো কথা তো আপনি বলছেন না আমি বলছি সমস্যা নেই। আমি বললাম আচ্ছা কি বলতে চান দ্রুত বলে ফেলেন আমি ডিনার করতে যাব।

ইলমা বললো, আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আপনি ডিনার করে আসেন এরপরে আপনার সাথে আমি কথা বলব। আমি বললাম না এখনি শেষ করেন দূরত্ব আমি খাওয়ার পরে ঘুমিয়ে পড়বো আপনার সাথে কথা বলার সময় হবে না। সিলভা বলল না আপনি খেয়ে আসেন এরপরে আমি আপনার সাথে লম্বা একটু কথা বলব আমি আর কথা না বাড়িয়ে বললাম ঠিক আছে এক ঘণ্টা পরে ফোন দিয়েন।

ওপাশ থেকে ইলমা বলল আপনার ক্ষেত্রে এক ঘণ্টা সময় লেগে যাবে। আমি বললাম শুনছেন এখন পর্যন্ত যে একটা মানুষের খেতে এক ঘন্টা সময় লাগে। এভাবে প্রায় ৩ মিনিট কথা বলার পরে আমি ডিনার করতে গেলাম। অতঃপর এসে আমি অপেক্ষায় থাকলাম কখন কল করে। অতঃপর হঠাৎ করে ফোন বেজে উঠলো আমি লাইক না করে ফোন তুলে দিলাম।

কথা বলতে শুরু করলাম এক পর্যায়ে ইলমা আমাকে বলল আচ্ছা আপনি কী মানুষটা এরকম নাকি আপনার মধ্যে রোমান্টিক বলতে কিছু আছে? আমি বললাম রোমান্টিক হয়ে কি হবে। ইলমা আমাকে বলল ও আচ্ছা তাই তো আপনি কলেজে কারো সাথে তেমন কথা বলেন না আড্ডা দেন না মেলামেশা করেন না তাই আমার মনে হলো যে আপনি অথবা আপনার মধ্যে রোমান্টিক বলতে কিছুই নাই।

আমি বললাম হ্যাঁ তাইতো আমার মধ্যে আসলেই রোমান্টিক বলতে কিছু নাই। অতঃপর একপর্যায়ে আমি বললাম ইলমা কিছু বলবেন আপনি তাহলে বলুন আমার ঘুমানোর সময় হচ্ছে। ইলমা কে বলল আপনি তো দেখছি খুব টাইম মেনটেন করেন। আমি বললাম হ্যাঁ টাইম একটুও মেন্টেন করতে হয়।

অতঃপর ইন হঠাৎ করে বলে ফেলল আচ্ছা আপনি কি বুঝতে পারেন না আপনাকে আমার ভালো লাগে? আমি থমকে গেলাম বুঝতে পারলাম না কি রিপ্লাই দিব। ওপাশ থেকে বলল আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন। আমি বললাম দেখেন ইলমা কাজের কোন কথা থাকলে সেগুলো বলেন আমি এখন ঘুমাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.