একটি ভালবাসার শেষ ঠিকানা • ২য় পর্ব

ভালবাসা! আর কথা না বাড়িয়ে আমি হুট করে ফোনটা কেটে দিলাম আমার একটু বিরক্তি লাগছে কারন প্রথমবার এভাবে কারো সাথে কথা বলছি আর অনেক বেশি কথা বলাতে অনেক বেশি বিরক্ত ফিল হচ্ছে ফোন কেটে দিয়ে আমি আর চিন্তাভাবনা না করে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লাম এর মধ্যে অনেকবার ফোন দিয়েছিল যেহেতু আমার ফোন সাইলেন্ট করা ছিল তাই আমি বিরক্ত ফীল করি নি।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠলাম দেখলাম একটা কল এসেছে আমি ধরলাম এবং ওপাশ থেকে বলল সারারাত আপনাকে কল করে গেলাম আপনি রিসিভ করলেন না। আমি বললাম দেখুন ইলমা আপনি কিন্তু আমাকে একটু বেশি বিরক্ত করে ফেলছেন আমি কিন্তু এগুলো পছন্দ করি না। আমি এখান থেকে বললাম একটা মেয়ে কিভাবে এতটা নির্লজ্জ হলে একটা মানুষকে বারবার এতবার ফোন করে ইলমা হয়তো একটু লজ্জা পেয়েছে লজ্জা পেয়ে কোনো কথা বলল না।

ইলবা ফোনটা কেটে দিলো। যাক বাবা বাঁচলাম এইবারের মত, কলেজে যাওয়ার জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি খাওয়া-দাওয়া শেষ করে কলেজের জন্য তৈরি হচ্ছি এমন সময় আমার ফোন আমি ফোন রিসিভ করলাম না নিজের মতো করে প্রত্যেক দিনের মতো কলেজে চলে গেলাম গিয়ে দেখি নির্লজ্জের মতো আবারো আজকে ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে আছে যদিও কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু আমি কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে গেট থেকে কোন রাজ্যের মধ্যে চলে গেলাম।

আমার পিছু পিছু আসতে লাগল আমি বললাম দেখো তুমি যেটা করতে চাচ্ছ এটা তুমি যদি শুনতে চাচ্ছে সেটা আমার দ্বারা কখনো সম্ভব নয়। ইলমা আমাকে বলল কেন সম্ভব নয় আপনি কি কোন মানুষ না আপনার কি ভালবাসার কোন অধিকার নেই তাহলে কেন সম্ভব না সবকিছু সম্ভব আপনি একবার যদি চিন্তা করেন তাহলে সবকিছু সম্ভব।

আমি বললাম দেখো এটা কলেজ এখানে আমরা কথা না বলি এ বিষয়ে আমি তোমাকে ভেবে জানাবো ইলভা একটু হাসি দিয়ে বলল ঠিক আছে আমি অপেক্ষায় থাকলাম। বাবা যাক বাবা এইবারে তো বেঁচে গেলাম। ক্লাস করলাম বাসায় ফিরলাম আবার ফোন দিলে ফোন রিসিভ করে বললাম তোমার কি বাসায় কোন কাজ নেই নাকি শুধু কলেজে আসো আর ফোন নিয়ে বসে থাকো ওপাশ থেকে ইলমা বলল কাজ অবশ্য আছে কিন্তু আপনাকে ফোন করার জন্য আমি বসে রয়েছি আমি বললাম ঠিক আছে বল কি বলতে চাও।

ইলমা বলল “আপনাকে আমি ভালোবাসি” আমি বললাম দেখো ইনভা এটা কোন নাটকের মঞ্চ নয় যে যা ইচ্ছে তাই তুমি বলে দাও। আর হ্যাঁ আমাকে আমি তুমি বলছি কারণ ও ক্লাসের জুনিয়ার তাই। ইলোরা আমাকে আপনি করে ডাকে। আমি বললাম তুমি ভুল মানুষকে ফোন করেছ পরবর্তীতে ফোন করার আগে তুমি কয়েকবার ভেবে নিবে।

এই কথাগুলো বলে আমি ফোন কেটে দিলাম অতঃপর ইলবা আরো বেশ কয়েকবার ফোন দিলাম রিসিভ করলাম না আমি নিজের মতো করে টেবিলে বসে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি এর মধ্যে একটা মেসেজ করল আপনি ফোন না ধরলে আমি কিন্তু আপনার বাসায় চলে আসব। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম এই মেয়ে তো আমার বাসা চিনে তাহলে। মেসেজ করার কিছুক্ষণ পরে ফোন করবো আমি বাধ্য হয়ে ফোন রিসিভ করলাম এবং বললাম তুমি কি আমার ভাষা চেনো নাকি?

ওপাশ থেকে বজ্জাত মেয়েটা বলল শুধু আপনার বাসা নয় আপনার বাসার বিল্ডিং কোন রোড দিয়ে বানানো সেই কোম্পানির রোড আমি চিনি। মনে মনে ভাবলাম এত খুব পাগলামো করছে এর একটা শিক্ষা দিতেই হবে। বললাম আচ্ছা তোমার কোন কাজ না থাকতে পারে কিন্তু আমার কাজ আছে আমাকে এখন ফোন রাখতে হবে আমার অনেক কাজ করতে হবে। এটা ফোন কাটছেই না আমি বললাম তোমাকে ফোনে কি টাকা ভরে দেয় তুমি তো অনেকটা নির্লজ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.