ভয়েস টাইপিং করে মনের ভাব লেখা

ভয়েস টাইপিং করে আপনার মনের ভাব কে লেখায় কনভার্ট করা যায় এটা যদি আপনি প্রথম জেনে থাকেন তাহলে হয়তো টেকনোলজি সম্পর্কে আপনার এমন অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করছেন ৯৬% মানুষ। সবাই সবার নিজ নিজ ল্যাঙ্গুয়েজ/ ভাষায় ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করে যাচ্ছেন। ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করার পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে যেগুলো ইউজার প্রতিনিয়ত উপভোগ।

আজ আমরা আপনাদের সাথে ভয়েস টাইপিং রিলেটেড কয়েকটি সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে আলোচনা। ভয়েস টাইপিং কেন করবেন এবং এটা কিভাবে করবেন! অথবা এটা আপনার মোবাইলে কিভাবে সেট করবেন সমগ্র বিষয়বস্তু নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

ভয়েস টাইপিং কেন করবেন?

এক্সাম্পল: ধরুন আপনার হাতে খুবই অল্প সময়ে রয়েছে কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যে আপনাকে অফিস কিংবা যে কোন কাজের জন্য অনেক বড় একটা দরখাস্ত অথবা চিঠি লিখে প্রেরণ করতে হবে অনলাইনের মাধ্যমে। কিন্তু এই সীমিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি হাতে টাইপিং করে লেখা আপনার জন্য অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে যাবে তখন আপনি ভয়েস টাইপিং যে সিস্টেম রয়েছে সেটির সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

মনে রাখবেন ভয়েস টাইপিং সবার জন্য উপযুক্ত এবং প্রযোজ্য এটির কোন লিমিটেশন নেই আপনি লাইফটাইম ফ্রি তে এটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং সর্বক্ষণ এটা ব্যবহার করতে পারবেন আপনার ভাষায় আপনার যে ভাষা রয়েছে সেই ভাষায় আপনি যা বলবেন সেটাই লেখা হয়ে যায়।

ভয়েস টাইপিং এর ব্যবহার সবার জন্য খুবই সহজ এবং ইজি হয়ে থাকে এবং বিশেষ করে এটি প্রত্যেকটা মোবাইলের জন্য এভেলেবেল রয়েছে। আর যাদের ফোনে ভয়েস টাইপিং সিস্টেম থাকার পরেও “বাংলা ভাষা” সিলেক্ট করে লিখতে পারছেন না তাদের মোবাইল আপডেট করতে হবে হয়ত কেননা ২০১৬ সালের আগে যে সকল মোবাইল গুলো ছিল সেই মোবাইলগুলোতে ভয়েস টাইপিং সিস্টেম এত বেশি ষ্ট্রং এবং ব্যবহার যোগ্য ছিল না।

বর্তমানে সব মোবাইলে ভয়েস টাইপিং সিস্টেম এভেলেবেল এবং সেটা খুবই স্ট্রং এবং খুব সহজে সেটা কাজ করে। দেখা যায় পূর্বের যে মোবাইল গুলো রয়েছে সেগুলো তে কথা বলার পরে সেগুলো টাইপিং হতে অনেকটা সময় লেগে যায় তবে এটা হতে পারে আপনার মোবাইলের যে কনফিগারেশন রয়েছে সেটার উপর ডিপেন্ড করে।

ভয়েস টাইপিং এর সুবিধা কি?

ভয়েস টাইপিং এর অসংখ্য সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুবিধা হচ্ছে- অনেক বড় আর্টিকেল আপনি নিমিষেই লিখে দিতে পারবেন। অফিসের কাজে এটি আপনাকে সহায়তা করবে এবং নির্ভুল লেখায় আপনাকে সহায়তা করবে। যারা নির্ভুল লিখতে চান কিন্তু নির্ভুল লিখতে পারেন না তাদের জন্য ভয়েস টাইপিং অনেক বেশি সুবিধাজনক।

এটি শুধু বাংলা ভাষা নয় এর পাশাপাশি আপনি সব ধরনের ভাষা কে ব্যবহার করে এটি লিখতে পারবেন। ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ “ইংলিশ” ভাষা থেকে শুরু করে যত ধরনের ভাষা রয়েছে সবগুলো ব্যবহার করে আপনি নিজের মনের ভাব গুলোকে লেখায় কনভার্ট করতে পারবেন।

বিশেষ করে, যারা ব্লগিং করে। অর্থাৎ যারা অনলাইনে লেখালেখি করে তাদের জন্য ভয়েস টাইপিং অনেক বেশি সুবিধাজনক তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত আর্টিকেলগুলো ভয়েস টাইপিং করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাজিয়ে-গুছিয়ে তৈরি করে ফেলতে পারে। ভয়েস টাইপিং এর মাধ্যমে নিজের মনের ভাবগুলো কে প্রকাশ করলে একটা আর্টিকেল অনেক বড় হতে পারে। (বিঃদ্রঃ এই আর্টিকেলটি ভয়েস টাইপিং এর মাধ্যমে তৈরি করা)

►► আরো দেখো: জীবনের সাফল্য কোথায় থাকে?

এছাড়া যারা সংবাদকর্মী/সাংবাদিক আছেন তারা ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করে অনেক বড় বড় নিউজ নিমিষেই তৈরি করে ফেলেন। ভয়েস টাইপিং করে লেখার ফলে আপনার লেখা গুলোর মধ্যে কাঙ্খিত ওয়ার্ড, অক্ষর, মিনিং সহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকে এতে কোন ধরনের ভুল হয়ে থাকে না।

এছাড়াও যারা অনলাইন সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে লেখালেখি করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য ভয়েস টাইপিং অনেক বেশি সুবিধাজনক। ভয়েস টাইপিং দিয়ে মানুষ বিভিন্ন লেখাকে নিজের মতো করে নিজের ভাষা দিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে তৈরি করতে পারে।

ভয়েস টাইপিং সেটাপ করা!

ভয়েস টাইপিং সেট আপ করার জন্য অবশ্যই আপনার ফোনে ভয়েস টাইপিং সিস্টেম কি এভেলেবেল আছে কিনা সেটা সম্পর্কে আপনাকে অবগত হতে হবে। অতঃপর ভয়েস টাইপিং যদি আপনার ফোনে অ্যাভেলেবল থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি ভয়েস টাইপিং এর সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারবেন।

ভয়েস টাইপিং সেট আপ করার জন্য আপনার মোবাইলের “সেটিংস” অপশন থেকে “ল্যাঙ্গুয়েজ” অপশন এ গিয়ে ভয়েস টাইপিং সিলেক্ট করুন অতঃপর আপনার কাঙ্খিত যে ভাষা সেটি সিলেক্ট করুন এবং এটিকে অন করে দিন।

অথবা এর জন্য একটি গুগলের কিবোর্ড ডাউন লোড করতে হতে পারে সেজন্য আপনি ‘গুগল প্লে স্টোর’ ওপেন করে সার্চ বারে গিয়ে টাইপ করুন ‘Gborad‘ অথবা পুরো নাম কি লিখতে টাইপ করুন ‘the Google Keyboard’ এটি লিখে সার্চ করলে সর্বপ্রথম যে অ্যাপটি চলে আসবে সেটিকে ডাউন লোড করুন এবং সেটিকে কনফিগারেশন করে এই অ্যাপসটির মাধ্যমে আপনি খুব সহজে আপনার ডিভাইসে ভয়েস টাইপিং সিস্টেমটি ব্যবহার করতে পারবেন।

বিঃদ্রঃ গুগলের এই সফটওয়্যারটি ১০ মেগাবাইট। খুবই হালকা একটি সফটওয়্যার যা ব্যবহার করার জন্য আপনার ফোনের উপর কোন ধরনের ইফেক্ট আসবেনা। বিশেষ করে এটি গুগলের অফিশিয়াল সফটওয়্যার হওয়াতে এটার জন্য আপনাকে কোন ধরনের রিক্স নিতে হবে না।

ভয়েস টাইপিং এর অসুবিধা!

আমরা জানি যে প্রত্যেকটা ভালো জিনিসের একটা খারাপ দিক থাকবেই এমনকি প্রত্যেকটি জিনিসের একটি করে খারাপ দিক থাকাটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়।

ভয়েস টাইপিং এটি অনেক হেল্পফুল একটি সফ্টওয়্যার এবং হেল্পফুল একটি মেকানিজম। এটি ব্যবহার করে মানুষ তার নিজের কাজকে আরও সহজ এবং গতিশীল করে নিতে পারে। কিন্তু এটি অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষ অলসতায় পরিপূর্ণ হতে পারে।

যারা নিয়মিত লেখালেখি করে তারা যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ভয়েস টাইপিং করে তাহলে তার লেখার গতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভয়েস টাইপিং করে লেখালেখির কারণে তাঁর লেখার ধরন ঘুরে যেতে পারে।

সর্বশেষ:

আমরা রিকোয়ারমেন্ট করব যে, ভয়েস টাইপিং কেবল তখনই ব্যবহার করুন যখন আপনার লেখার গতি আরও দ্রুত করতে চান অথবা আপনার লেখাগুলো খুবই ভুল হচ্ছে তখন আপনি ভয়েস টাইপিং এর মাধ্যমে সংশোধন করে নিতে পারেন। অথবা আপনার লেখার ধরন কেমন সেগুলো ভয়েস টাইপিং এর মাধ্যমে আপনি পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

প্রত্যেকটা জিনিস ব্যবহারে অবশ্যই লিমিটেশন রাখবেন কেননা এটি অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহারের ফলে আপনারা যে ভয়েস টাইপিং করার অভিজ্ঞতা সেটি হারাতে পারেন তাই এটা ব্যবহারের জন্য সব সময় লিমিট অতিক্রম করার চেষ্টা করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.