পাশের গ্রামের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি জানেন?

পাশের গ্রামের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি আবারও যদি আমার মনে পড়ে তাহলে শরীরের মধ্যে ঘিনঘিন করে বাদ্য বাজে ঘরে ঘরে শরীর চিড়বিড় করে ওঠে। সেদিনটি ছিল ২০১৬ সালের ২৭ তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার আমার লাইফে এমন একটা দিন আসবে আমি বুঝতেই পারিনি তবে ওই দিনটি থাকবে স্মৃতিময় হয়ে সারা জীবন ওই দিনটি স্মৃতিময় হয়ে থাকবে কিভাবে বুঝবো আমার সাথে এমন একটি ঘটনা ঘটবে আসলে এটা বোঝা খুবই কষ্টকর এবং খুবই মুশকিল তার পরেও এমন ঘটনাটি আমার সাথে ঘটে গেল।

যদিও আমি এই ঘটনার জন্য বিন্দু পরিমান প্রস্তুত ছিলাম না তারপরও ঘটে গেলো ঘটনা আর বিশেষ করে কপালের লিখন সেটাতো আর সম্ভব নয় তাই হয়তো আমার সাথে এমনটা হয়েছে।

আমার নাম ইউসুফ। আমি ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট পদে চাকরি করে। আমার মান্থলি স্যালারি ২৮,০০০ টাকা। যা দিয়ে আমার সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই যাচ্ছিল কারন একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে মান্থলি ২৮ হাজার টাকার অনেক মূল্য আমি মনে করি।  এভাবে আমার জীবনের প্রত্যেকটা দিন সামনের দিকে এগোতে থাকলো কিন্তু একদিন রাতে ব্যাংক থেকে ফেরার পথে আমি পড়লাম অদ্ভুত এক আরো আসক্তির  কবলে।

আনুমানিক দুটোর সময় আমার বাসায় ফেরা যেহেতু মাসের শেষের দিকে প্রায় তাই প্রচুর কাজ জমে গেল শেষ করতে করতে আমাদের বেশ কয়েকজনের অনেক রাত হয়ে গেছে তাই বাসায় ফিরতে অনেকটা লেট হয়েছে যদিও এত টাইম করে বাসায় হাড়ি কখনো ফেরা হয়নি তাই এটা নতুন এক্সপেরিয়েন্স বলা যেতে পারে। 

সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি:

পাশের গ্রামের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি জানেন?

আগেও কিছু সময় বাসায় নেট করে ফেলা হতো তবে সেটা আনুমানিক বারোটা থেকে সাড়ে বারোটা অব্দি তবে এত টাইট করে এই প্রথমবার বাসায় ফেরা আমার। কে জানতো অদ্ভুত এই ঘটনাটি আজকে আমার সাথে ঘুরতে চলছে আর যদি আমি কোনোভাবেই এটা জানতে পারতাম তাহলে তো কখনোই আমি অফিস থেকে বের হতাম না অথবা কোনোভাবেই আজকে এত লেট করতাম না কিন্তু কারো সাথে কোন অঘটন ঘটলে সেটা কখনো বলে কয়ে আসে না এটা কিন্তু স্বাভাবিক বিষয় কই আসে না এটা কিন্তু স্বাভাবিক বিষয়।

অনুরূপভাবে এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো একদম না করে না বলে আমি যার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না এবং সম্পূর্ণ আমার উপর থেকে যখন গেছে।  আমি বাসায় ফিরতে ছিলাম আর যেহেতু গ্রামের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাই এত রাতে রাস্তাতে কোন গাড়ির ব্যবস্থা নেই সেটা তো আপনারা বুঝতেই পারবেন কারণ গ্রামের মানুষগুলো রাত ১২ তার মধ্যে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে এমনকি অনেকে তার আগেও ঘুমিয়ে পড়ে তবে অধিকাংশ মানুষ আগে ঘুমালেও কিছু সংখ্যক মানুষ বারোটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে।  যদিও কিছু মানুষ হয়তো রাত একটা অব্দি জেগে থাকতে পারে তাও খুব কম সংখ্যক লোক অর্থাৎ জেগে থাকে না বললেই চলে। 

আমি আমার মতো করে হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর চলে আসলাম যেখানে ব্যাংক থেকে বাসায় আসতে গাড়িতে করেই প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগে যেত সেখানে হেঁটে হেঁটে আসতে আমার প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। যদিও হেঁটে আসার এক্সপেরিয়েন্স আমার আরো বেশ কয়েকবার হয়েছিল মাসের শেষের দিকে যখন প্রচুর কাজের চাপ পড়ে তখন একটু রাত হতেই গাড়ি পাওয়া যায়না তখন হেঁটে আসতে হয় তবে সেই আগের এক্সপিরিয়েন্স অবলম্বন করে হাঁটা শুরু করলাম একপর্যায়ে একটা অবস্থানে পৌঁছে গেলাম।

৪৫ মিনিট পরে দু’পাশে ঘন জঙ্গলের মতো দুটো বাগান যার মত থেকে এত রাতে অদ্ভুত ধরনের আওয়াজ আসছিল আরে আওয়াজগুলো অস্বাভাবিক কিছু নয় কেননা গভীর রাতে বিভিন্ন পাখির ডাক বিভিন্ন বিভিন্ন প্রাণী এভাবে ডেকে থাকে এগুলো আমার কানের মধ্যে তেমন একটা লাগেনি তবে হঠাৎ করে আমি বুঝতে পারলাম আমার পেছনে কেউ হেঁটে চলছে আমি কোন পাত্তা না দিয়ে আমি সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম।  পাঁচ মিনিট হাঁটার পরেও আমি বুঝতে পারলাম আমার পিছনে কেউ হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে হয়তো আর ১০ মিনিটের মত যদি এখান থেকে হেঁটে হেঁটে সামনের দিকে আগাতে পারি তাহলে আমি জঙ্গল অতিক্রম করতে পারব কিন্তু আমি আমার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রায় পাঁচ মিনিটের বেশি এইটুকু জায়গায় কেটেছে কিন্তু তবুও আমি সামনের দিকে আগাতে পারছি না হেটে যাচ্ছে কিন্তু আমি সামনের দিকে আগাতে পারছি না এমন বিষয়টি দেখে আমার শরীরের মধ্যে ভয় হতে শুরু করল।

►► আরো দেখো: জীবনের সাফল্য কোথায় থাকে?

►► আরো দেখো: সেদিন রাতের ভয়ঙ্কর আর্তনাদ

যদিও আমি এখনো পিছনের দিকে তাকাই নি কারণ আমি বুঝতে পারছি আমার পিছনে কিছু একটা রয়েছে আর পেছন দিকে তাকানো মাত্র আমার শরীরের মধ্যে ভয়েস কম্পন সৃষ্টি হবে যার জন্য পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনে দিকে তাকিয়ে হাটতে লাগলাম কিন্তু কোনোভাবেই যেন সামনের দিকে পথ ভ্রষ্ট হচ্ছে না। 

আর কত পথ পাড়ি দিলে যেন আমি এই জোগগোলের সীমানা অতিক্রম করতে পারব তা বুঝতে পারছি না ইতিমধ্যে আমার হাতে থাকা ফোনের লাইট রয়েছে সেটি কাঁদতে শুরু করল আমি বুঝতে পারলাম না এমনটা কেন হচ্ছে এটা কোন সাধারণ টসলাইট নয় যে মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এটা আমার স্মার্টফোন এবং পর্যাপ্ত চার্জ থাকা সত্ত্বেও কেন এভাবে কাপাকাপি শুরু করলাম বুঝতে পারলাম না আমি ঝাঁকাতে শুরু করলাম ঝাকানো মাত্র আবার পূর্বের মতো ঠিক হয়ে গেল কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম আমার পিছনে অনেক বড় কিছু হাঁটাহাঁটি করছে ঝমঝম শব্দ আসছে আমি এবার সাহস করে পেছন দিকে তাকানোর জন্য প্রস্তুতি নিলাম কিন্তু তাকে যদি অদ্ভুত কিছু দেখি তখন আমি কি করবো সে বিষয়ে আমি ভাবতে শুরু করলাম।

হঠাৎ করে লক্ষ করলাম কেউ একজন আমার ফোনে ফোন দিয়েছে যদিও তখন আমার ফোনের ব্যাপারে এতটা হুঁশ ছিলোনা আমার হুশ ফিরে আসলো এবং আমি ফোন রিসিভ করলাম রিসিভ করার পরে সেখান থেকে কোন কথা আসছে না শুধু হইচই শব্দ আসছে আমি বুঝতে পারলাম হয়তো কেউ রং নাম্বারে ফোন দিয়েছে এত রাতে আমি ফোন না কেটে ওভাবেই ফোন রেখে টচ লাইট জ্বালিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম তবু পিছনের দিকে তাকালাম না। 

কিন্তু অনুরূপভাবে পূর্বের মতো ক্যামেরার পেছনের অপেক্ষা না করে পিছনের দিকে তাকালাম তাকিয়ে দেখলাম  হায় হায় “ একটি বিশাল আমার পিছনে হেঁটে আসছে যার চেহারা এত পরিমাণে যা বলে বোঝানো সম্ভব না” কি করব পেছনের দিকে তাকিয়ে এখন আমি চিন্তিত হয়ে গেলাম এখন তো আমার ভয় আরো বেড়ে গেল বুঝতে পারলাম না কি করা যায় এবং অবস্থানের পেছনে তাকানো মাত্রই ভয় পেয়ে সেখানে বসে পড়লাম এখন যেন সামনের দিকে বিন্দু পরিমান আমার পা বাড়াতে পারছিনা আমি যেনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না এত পরিমান শরীর কাঁপছে বুঝাতে পারছি না এখন।

যদিও আমার মোটামুটি সাহসের হয়েছে তারপরেও এখন যেন আমি সাহসী হয়ে যাচ্ছি বর্ষের জন্য কোন অনুতপ্ত খুঁজে পাচ্ছিনা যদি সাহস না থাকে তাহলে এত রাতে কিভাবে একা একা বাড়ির পথে হেটে চললাম আমি সেই মোটামুটি সাহস আমার রয়েছে এটা আমিও বুঝতে পারি কিন্তু আমি আজকে এত দ্রুত এতদ্বারা তাড়াতাড়ি কেন যে ভেঙ্গে পড়লাম বুঝতে পারছিনা। তাও আমি সাহস নিয়ে প্রচুর সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম এবং সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম কিন্তু তখন আমি খেয়াল করলাম আমার পিছনে হেঁটে চলছে কিন্তু আমার কোন ক্ষতি করছে না আমি শুধু নিজের মতো করে ভয় পেয়ে আমার হাত ছেড়ে দিচ্ছি কিন্তু আমার কোন ক্ষতি এখন পর্যন্ত করছে না তখন আমি ভাবতে শুরু করলাম হয়ত আমার কোন ক্ষতি করব না কিন্তু আমার এই সামনে পথ অতিক্রম হচ্ছে না তবে আমি বসা থেকে উঠে যখন সাহস করে সামনের দিকে হাটতে লাগলাম তখন আমি লক্ষ্য করলাম আমি জঙ্গলের প্রায় শেষ মুহূর্তে চলে এসেছি কিন্তু এতক্ষণ যখন আমার মনের মত সাহস ছিল না তখন আমি বুঝতে পারলাম আমি স্বামীর দিকে আগাতে পাচ্ছিনা আমি একটা জায়গায় বারবার হেঁটে হেঁটে বেড়াচ্ছি।

এবার সামনের দিকে আরেকটু অতিক্রম করবে ফজরের আযানের শব্দ আমার কানে বাজছে এখন সকাল হতে চলল তাহলে কি আমি সারারাত এভাবে হেঁটে চললাম বুঝতে পারছি না বিষয়টা কি হচ্ছে আমার সাথে এর মধ্যে বাসা থেকে কেউ কি আমার কাছে ফোন করেনি নাকি ফোন করেছে তারা আমাকে পাইনি বিষয়গুলো মাথার মধ্যে ঘুরতে লাগল আমি লক্ষ করলাম ফোনে চার্জ প্রায় শেষ তাহলে এতক্ষণ আমি কইছিলাম এত সময় আমার কাছে তো মনেই হয়নি আমার তো মনে হচ্ছে সেখানে এক ঘণ্টার মতো সময় লেগেছে।

যাই হোক আর বাবা ভাবি না করে যখন এর মধ্যে আযানের শব্দ আসতে লাগল আমি লক্ষ করলাম আমার পিছন থেকে হয়তো বিপদ কেটে গেছে এখন আর পিছনে কেউ নেই,  যাই হোক আর বাবা ভাবি না করে যখন এর মধ্যে আযানের শব্দ আসতে লাগল আমি লক্ষ করলাম আমার পিছন থেকে হয়তো বিপদ কেটে গেছে এখন আর পিছনে কেউ নেই আমি বুঝতে পারলাম হয়তো এটাও অদ্ভুত করে শক্তি ছিল হয় তোমার জন্যই পিছন নিয়েছিল কিন্তু আজান তাকে বিলুপ্ত করে দিয়েছে আমি নিজের মতো করে হেঁটে হেঁটে প্রাইমারি অব্দি চলে এসেছে আর কয়েক মিনিট হাঁটার পরে আমার গন্তব্য কিন্তু এখান থেকে আমার মোটেও ভয় করছে যেহেতু আমি সবসময় এখানে হাঁটাচলা করি আমার বাড়ির নিকটতম জায়গা তাই আমি প্রচুর সাহস যুগিয়ে বাড়ি পর্যন্ত পৌছালাম।

►► আরো দেখো: এডস লিমিট সমস্যার সমাধান করুন

►► আরো দেখো: ঝালকাঠিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর মাত্রই দরজায় নাড়া দিতে সবাই জোরে কান্না করে দরজা খুলতে লাগল এবং আমাকে দেখা মাত্রই সবাই আরো জোরে কান্না শুরু করতে লাগল জিজ্ঞেস  এত সময় কোথায় ছিলে তোর কোনো বিপদ হয়নি তো এটা শোনা মাত্রই আমি সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং অজ্ঞান হওয়ার পরে নাকি তিন ঘন্টা অজ্ঞান ছিলাম এরপর আমার জ্ঞান জ্ঞান আসার পরে আমি তাদেরকে পুরো বিষয়টা জানালে তারা বলে তোকে আল্লাহর রহমত করেছে তাই তো বেঁচে গেছিস হয়তো তোর জীবনের শেষ হতে পারত এই দিনটি।

যদিও তারা বেহুশ হওয়ার পূর্বে ডাক্তার কবিরাজ সব কিছু এনেছিলেন তবে তাদের হাতের কোন ক্ষমতাই হয়তো আমাকে সুস্থ করতে পারেনি কেবলমাত্র আল্লাহর ক্ষমতা ভাবে সুস্থ করেছে।  এরপরে আমি আর কখনো অফিস থেকে লেট করে বাসায় ফিরেনি যদিও লেইট হলে আমি শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে থেকে দিয়েছিলাম কারন আমার সাথে এমন ঘটনাটি খুবই অদ্ভুত এবং কষ্টদায়ক ছেড়ে যাওয়ার জন্য এমন অদ্ভুত ঘটনা আর না হয় সেজন্য আমি কখনো একা একা বাসায় ফিরি না। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.