ফ্যামিলি কে ছেড়ে প্রবাসী থাকার কষ্ট!

নিজের মাতৃভাষা, বাড়তি ভূমি এবং ফ্যামিলিকে ছেড়ে যারা প্রবাসী হয়ে দূরে আছে তারা বুঝতে পারে নিজের মাতৃভূমি নিজের মাতৃভাষা নিজের ফ্যামিলিকে ছেড়ে দূরে থাকতে কতটা কষ্ট হচ্ছে তারা বুঝতে পারে তার মাতৃভূমি ছাড়া প্রবাসী হয়ে জীবন কাটানো কত বেদনা দায়ক। প্রবাসী কিংবা আমার ভাইয়েরা যারা প্রবাসী হয়ে ওখানে পড়ে আছেন তারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশে বাবা মা স্ত্রী সন্তানদের জন্য টাকা উপার্জন করে আর সেই টাকা দিয়ে আমরা সহজেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবকিছু পূরণ করি। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে আমরা কি আসলেই সুখী?

মেইনলি, আমরা সুখী না, আমরা বুঝতে পারি আমাদের পরিবারের একজন প্রবাসী হয়ে থাকলে আমরা বুঝতে পারি তার কষ্টগুলো কিন্তু বেশি খেলে তার সর্বোপরি যে একটা কষ্ট থাকে দেশের জন্য পরিবারের জন্য নিজের মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমির জন্য সেটা কিন্তু আমরা উপলব্ধি করতে পারিনা কেননা আমরা কিন্তু তার অবস্থানে নয় আমরা ব্যক্তিগতভাবে নিজের অবস্থান এবং নিজের মাতৃভূমিতে আছি যার জন্য আমরা তাঁর মাতৃভূমির কষ্টটাকে উপলব্ধি করতে পারিনা। অনেকেরই ধারণা প্রবাসী হয়ে বিদেশে থাকলে কি হবে সমস্যা কি দেশেয় থাকলে কাজ করতে হতো আর প্রবাসী হয়েও তো কাজ করতে হবে তাহলে সমস্যা কোথায়?

আমি মনে করি যারা এই ধরণের অদ্ভুত প্রশ্নের সাথে সামিল রয়েছে তাদেরকে লম্বা সময়ের জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হোক কাজের জন্য তারা বুঝবে দেশের এক দেশের মায়া কতটা গভীর হতে পারে তারা বুঝতে পারবে দেশ ছেড়ে আরেক দেশে অবস্থান করার কষ্ট কতটা কষ্টদায়ক হতে পারে। বিভিন্ন সময় আমরা দেখে থাকি প্রবাসী ভাইয়েরা অনেক উপর থেকে বা বিভিন্ন সময়ে কাজের সাইটে এক্সিডেন্ট করে মারা যায় তারা মারা যাওয়ার সময় টা তে নিজের পরিবারের মানুষজনকে পাশে দেখতে পারে না। তারা মারা যাওয়ার সময় টা তে নিজের পরিবারের হাতে পানি পান করতে পারে না ভাই এর থেকে কষ্টদায়ক কিছুই নেই।

এর থেকে কষ্টদায়ক কিছু হতে পারে বলে আমার মনে হয় না। যাদের জন্য নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করে নিজের পরিবারের সব ত্যাগ করে নিজের বন্ধুবান্ধব সবাইকে ট্যাগ করে প্রবাসী হয়ে দিনরাত কাজ করে টাকা উপার্জন করছে তাদের হাতে পানি পান না করেই মৃত্যুবরণ করাটা কত বড় কষ্টের তা হয়তো আমি এখানে লিখে বুঝাতে পারব না এই মুহূর্তে আমার লেখাগুলোর ভাষা আমি নিজেই বুঝতে পারছি না আমার চোখ থেকে পানি ঝরছে। আমি জানিনা আমার লেখাগুলো পড়ে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারবেন কিনা তবে যারা প্রবাসী তাদেরকে আমরা যখন অত্যাচার করে তখন আমাদের এই কথাগুলো মনে থাকেনা।

প্রবাসীদের কিভাবে অত্যাচার করি আমরা?

প্রবাসী

উপরে আমি বলেছি প্রবাসীকে অত্যাচার করা কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমরা কি প্রবাসীকে এখানে বসে আঘাত করতে পারি হাত দ্বারা কিংবা লাঠি দ্বারা? কখনোই না আমরা প্রবাসী কে আঘাত করতে পারি না কিন্তু আমরা কথা দ্বারা আঘাত করে থাকি প্রবাসীকে, ধরুন আপনি একজন প্রবাসী আপনি বিগত কয়েক বছর ধরে বিদেশে কাজ করে যাচ্ছেন আপনার ফ্যামিলি ছেলে সন্তান সবার জন্য সবার মায়া ত্যাগ করে আপনি দূরে জায়গায় একা পড়ে আছেন আপনি নিজে ঠিক মত খাচ্ছেন না কিন্তু আপনার পরিবারের সবার জন্য খাবার জোগাড় করতে আপনি প্রবাসী হয়ে আছেন।

আপনি ঠিকমতো ঈদ উদযাপন করছেন না কিন্তু আপনার পরিবারের সবাই ঈদ উদযাপন করার জন্য সবার জন্য আপনি সুন্দর কাপড় চোপড় পোশাকাদি কিনার লক্ষ্যে টাকা দিচ্ছেন এটাই কিন্তু নিজের থেকে আঘাত দিয়া আবার অনেক সময় দেখা যায় ফ্যামিলির কেউ যদি মাদকাসক্ত আসক্ত থাকে সে ক্ষেত্রে বারবার ফোন করে আমার এই কয় টাকা লাগবে আমার টাকা লাগবে তখন কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে নিজেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে যায় কারণ এত কষ্ট করে যখন উপার্জন করা হয় সেই উপার্জন দিয়া যখন কেউ মাদকাসক্তি আসক্ত হয়ে পড়ে তখন এর থেকে বেশি আঘাত আর কিছু থাকে বলে আমার মনে হয় না।

এজন্যই বলে থাকি আঘাত শুধু হাত দ্বারা কিংবা লাঠি দ্বারা করা হয় না আঘাত করার বিভিন্ন কৌশল রয়েছে যেমন কথা দ্বারা মানুষকে আঘাত করা যায়। কথার মাধ্যমে মানুষকে এমন আঘাত করা যায় যা মানুষের সারা জীবন মনে থাকে। এভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়েই মূলত প্রবাসীরা সেখানে বিভিন্নভাবে মৃত্যুবরণ করে কিংবা কেউ কেউ আত্ম হ ত্যা করে ফেলে। কিন্তু মেইনলি তাদের আত্ম হ ত্যা কিভাবে মৃত্যু জন্য অনেকটা কারণ আমরা হয়ে থাকে তার পরিবার হয়ে থাকে।

প্রবাসীদের কষ্ট কি?

প্রবাসী

যদি কারো প্রশ্ন হয়ে থাকে যে প্রবাসীদের কষ্ট কি তাহলে এটা খুবই ছোট এবং সহজ একটা প্রশ্ন। নিজের দেশ নিজের ভাষা নিজের পরিবার ছেড়ে দূরে থাকার মত কষ্ট কিছুই পৃথিবীতে নেই। চাইলেই কারো সাথে কথা বলতে পারি না আবার চাইলেই নিজের মতো করে সবার সাথে আড্ডা দিতে না পারা সবার সাথে এক টেবিলে বসে খাবার খাওয়া এগুলো হয়তো জীবন থেকে হারিয়ে যায় প্রবাসীদের জন্য। বিভিন্ন সময় মানুষ বলে থাকে যে, প্রয়োজনে দেশের মাটিতেই মরব তাও বিদেশ গিয়ে উপার্জন করার লক্ষ্যে দেশ ত্যাগ করব না। এই কথাটা বলার মেইনলি উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজের দেশের মায়া নিজের পরিবারের মায়া।

নিজের দেশকে ছেড়ে তারা প্রবাস কিংবা প্রবাসী হতে চাচ্ছেন না তারা পারবেন না নিজের দেশকে ছেড়ে যেতে সেটাই কেবলমাত্র তিনি বোঝানোর চেষ্টা করছেন। আমরা মানুষ কতটা অদ্ভুত হতে পারি এবং কতটা অদ্ভুত হলে এ ধরনের বেশি ভিড় করে থাকে যে আমার টাকা লাগবে টাকা পাঠাও আমার গয়না লাগবে আমার যাওয়া লাগবে। প্রবাসীর কাছে যখনই আমরা কিছু আবদার করে তখন সে এটা দেওয়ার জন্য আকুল হয়ে পড়ে কিন্তু তার এটা দিতে যতই কষ্ট হোক না কেন এটার দিকে লক্ষ করে না এর পরেও যখন দেশে এসে তাদের মন জয় করতে না পারে তখন তার মনে হয় যে তাদের জন্য কিছুই করতে পারেনি তার কষ্টগুলো কোনো কাজে আসেনি।

অনেক সময় এমন হয়ে থাকে বিয়ে করে বউ বাড়িতে রেখে নিজের গন্তব্যে চলে যায় অর্থাৎ উপার্জন করার লক্ষ্যে নিজের দেশ পরিবার ত্যাগ করে প্রবাসী হয়ে পড়ে তখন বউ এর একাউন্টে সব টাকা পাঠায় অতঃপর একটা সময় অনেক টাকা জমা হয় একসময় টাকা-পয়সা নিয়ে উধাও হয়ে যায় তখন মনে হয় জীবনটা কোনো সহজ কাজ নয় জীবনটা কঠিন কাব্য দিয়ে তৈরি করা। তখন মনে হয় জীবনের সহজ কিছুই নেই যা কিছু রয়েছে সব কঠিন এবং অদ্ভুত।

আমাদের জীবন কতটা সহজ?

প্রবাসী

আসলে আমাদের জীবন এতটা সহজ নয় যে আমরা চাইলেই সবকিছু করতে পারে চাইলেই সবকিছু বুঝতে পারি আমাদের জীবনে প্রয়োজনের কোন শেষ নেই তবে আমাদের কয়েকটা ধাপে আল্লাহ তৈরি করেছেন যেমন মধ্যবিত্ত বড়লোক আবার গরিব। বেশিরভাগ সময় মধ্যবিত্তদের স্বপ্ন বেশি হয় এবং তাদের স্বপ্নগুলো বাস্তবে পূরণ হয়না অনেকের মধ্যবিত্তদের স্বপ্নগুলো বাস্তবে পূরণ হওয়ার জন্য যে সকল অর্থ-সম্পদ দরকার তা হয়তো আল্লাহ অনেকেই দিয়ে থাকেন না আবার যারা ধনী ব্যক্তি তাদের অর্থের শেষ থাকে না তারা যেন নিজের সবকিছুকে সহজেই পূরণ করে ফেলতে পারে নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষা সবকিছু করে ফেলতে পারে।

নিজের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায় যখন নিজের একটা স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হয় না কিন্তু আপনার ধৈর্য যত বড় হয়ে আল্লাহর দয়া আপনার কত বড় হয় আপনি যদি নিমিষেই আপনার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন তাহলে আল্লাহর দয়া আপনার উপর থেকে চলে যাবে তাই ধৈর্য ধরতে হবে দীর্ঘ সময় ধরে। আপনার ধৈর্য হওয়া উচিত অনেক বড় পাহাড় সমান। আপনার ধৈর্য যখন শেষ হয়ে যাবে তখন কেবল আল্লাহর রহমত শুরু হয়ে যাবে তাই যথা সম্ভব বড় ধৈর্য ধরার চেষ্টা করুন তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন তাহলেই আপনি সামনের দিকে নিজেকে সহজেই টেনে নিয়ে যেতে পারবেন।

আমরা মানুষ আমরা এগোলাম আমরাই দাস আমাদের অভ্যাস বদভ্যাস সবকিছু মিলেই আমরা তৈরি হয়েছি। সব কিছুর পিছনে রয়েছে অনেক পরিশ্রম অনেক ক্লান্ত অক্লান্ত পরিশ্রম আর আক্রান্ত নির্ভীক ভালোবাসা। আমরা চাইলেই আমাদের জীবনকে পরিচালনা করতে পারিনা আমাদের জীবন পরিচালনা করেন কেবল মহান আল্লাহ তায়ালা তবে আমরা জীবনকে সাজাতে পারি। তবে জীবন সাজাতে ধৈর্যের প্রয়োজন অনেক বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.