ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার উপায়!

ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার উপায় সমূহ! আমরা যারা টুকটাক অনলাইনে ঘাটাঘাটি করি অথবা যারা অনলাইনে লেগে থাকে তারা যা নিজ ওয়েবসাইট সহ বিভিন্ন কিছু প্ল্যাটফর্ম আছে যেগুলোর মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা যায় কিন্তু এগুলো উপার্জন করার মেইন সোর্স অথবা মেইন উপায় কি সেগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত না।

মূলত আজকে আমরা এই আর্টিকেলে ওয়েবসাইট থেকে উপার্জন করার বেশ কয়েকটি মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করব। এছাড়াও ওয়েবসাইট থেকে উপার্জন করতে হলে আপনাকে কি কি করতে হবে এবং একটা ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কি কি সরঞ্জাম প্রয়োজন সবকিছু নিয়ে এই আর্টিকেলে আমি আছি আপনাদের সাথে সাইফুল ইসলাম।

এই আর্টিকেলের যে সকল বিষয় আলোচনা করা হবে তা-

  • ওয়েবসাইট কি?
  • ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কি প্রয়োজন?
  • ডোমেইন হোস্টিং কি এবং কোথায় পাব?
  • কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করে?
  • ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার জন্য কি করব?
  • গুগল এডসেন্স কিভাবে কানেক্ট করব?
  • গুগল এডসেন্স থেকে কিভাবে টাকা তুলব?

উপরে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে সেই সকল বিষয়গুলো নিয়ে তৈরি হচ্ছে আজকের এই আর্টিকেলটি। একটা ওয়েবসাইট শুরু থেকে একদম শেষ পর্যন্ত কিভাবে কি করতে হবে সব বিষয়গুলো এখানে উল্লেখিত থাকবে সেই সাথে একটা ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা হয় সে বিষয়ে এখানে অবশ্যই উল্লেখিত থাকবে।

ওয়েবসাইট কি?

ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা

ওয়েবসাইট হচ্ছে একটি দোকানের মত। যেখানে আপনার অনেকগুলো প্রোডাক্ট/আসবাবপত্র, সরঞ্জাম সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা যায়। ওয়েবসাইট এমন একটা জায়গা যেখানে অনেকগুলো ওয়েবপেজকে একসাথে রাখা হয়। একটা ওয়েবসাইট এর মাধ্যমেই মূলত আপনার প্রতিষ্ঠান পরিচিতি লাভ করা সম্ভব। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নামে একটা ওয়েবসাইট থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানকে মানুষ খুব সহযে চিনতে পারে।

ওয়েবসাইটের দেশ কতগুলো ধরন রয়েছে যেমন- ব্লগ ওয়েবসাইট, নিউজ পেপার, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ই-কমার্স, পার্সোনাল ওয়েবসাইট সহ আরো হাজার হাজার ধরন রয়েছে ওয়েবসাইটের। হতে পারে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। এককথায় প্রত্যেকটা বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য একটা করে ওয়েবসাইট থাকে এবং সেটা তাদের নামে হয়ে থাকে এতে করে তাদের ভার্চুয়াল জগতে অনেক পরিচিতি লাভ করা সম্ভব হয়।

►► আরো দেখো: ৫ টি ইউটিউবে সফল হওয়ার টিপস
►► আরো দেখো: ৭টি কার্যকরী পড়ালেখার টিপস

এই ভার্চুয়াল জগত থেকে মানুষ বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা যেতে পারে। শুধু এটাই নয় প্রতিষ্ঠান প্রচারের জন্য এখানে বিভিন্নভাবে বুস্ট করা হয়ে থাকে এতে করে হাজার হাজার মানুষের পরিচিতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানগুলো।

ওয়েবসাইট এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি আপনার প্রোডাক্ট গুলো সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবেন এবং সেগুলো অন্য অন্য মানুষ দেখবে। আপনার প্রোডাক্ট হতে পারে কনটেন্ট যেগুলো মানুষ গুগলের সার্চ করে পড়বে এবং এখানে যদি গুগলের বিজ্ঞাপন থাকে সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম হবে। (ইনকাম বিষয়ক আলোচনা নিচের দিকে তুলে ধরা হলো)

ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কি কি প্রয়োজন?

ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা

ওয়েবসাইট কি সে বিষয়ে ইতিমধ্যে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। এখন আমরা আলোচনা করব একটা ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য যে সকল সরঞ্জাম গুলো প্রয়োজন হয় সে সকল বিষয় নিয়ে।

আমরা জানি, ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা যায় তবে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার পূর্বে আপনাকে কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হবে। মূলত একটা ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য ডোমেইন, হোস্টিং, সুন্দর ডিজাইন করা ওয়েবসাইট, কোয়ালিটিফুল কন্টাক্ট, ফুল এসিও SEO প্রয়োজন হয়ে থাকে। এগুলো সম্পূর্ণ না হলে একটা ওয়েবসাইট পরিপূর্ণ হয় না কখনো।

ডোমেইন কি?

ডোমেইন হচ্ছে নাম। ডোমেইন নাম বলতে সাধারণভাবে কোনো একটা ওয়েবসাইটের নাম কে বোঝানো হয়। ডোমেইন নাম ক্লায়েন্ট কম্পিউটার কে ওয়েব সার্ভার এর সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। ডোমেইন নাম সংক্রান্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ডোমেইন নেম সিস্টেম।

আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ডোমেইন থাকলে সেটি আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে হবে। এটা আইপি সিস্টেমে করা হয়ে থাকে কিন্তু মানুষের বোঝার এবং মনে রাখার সুবিধার্থে এটাকে অক্ষরে পরিবর্তন করা হয়। যেমন- Google.com, YouTube.com, Facebook.com এগুলো সব ডোমেইন। ডোমেইন এক্সটেনশন হাজার হাজার রয়েছে। Google.com এই ডোমেইনটি কেবল মাত্র একজন ক্রয় করতে পারবে এবং এটি এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অন্য কেউ এটির মালিকানা হতে পারবে না অর্থাৎ এটি অন্য কেউ কিনে ব্যবহার করতে পারবে না।

হোস্টিং কি?

ওয়েব হোস্টিং (Web Hosting) হচ্ছে এমন একটি পরিষেবা যার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটটি সবসময়ের জন্য চালু থাকবে এবং লাইফ থাকবে। মূলত এটি একটি স্টোরিজ। হোস্টিং এর মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটের সকল তথ্য সকল প্রোডাক্ট কনটেন্ট সহ যাবতীয় সবকছু পরিপূর্ণ থাকে এবং একটি ওয়েবসাইট সম্পূর্ণভাবে প্রোটেক্ট করে আপনার হোস্টিং।

এক্সাম্পল: সাধারণত আমাদের ফোনে যে সকল ডকুমেন্ট, অডিও, ভিডিও অথবা ইমেইল রয়েছে সবগুলো নির্দিষ্ট একটা মেমোরিতে থাকে। অনুরূপভাবে হোস্টিং হচ্ছে একটা মেমোরির মত যেখানে ওয়েব সাইটের সকল ডাটা সংরক্ষিত থাকবে। হোস্টিং বিহীন একটা ওয়েবসাইট কখনো চলমান নয়।

হোস্টিং এর মধ্যে কোন সমস্যা হলে তখন আপনার ওয়েবসাইটের লাইফে থাকবেনা অথবা হোস্টিং এর মধ্যে কোন সমস্যা হলে কিংবা আপনার হোস্টিং থেকে কোন ফাইল ডিলিট হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে ইফেক্ট পড়বে।

ডোমেইন-হোষ্টিং কোথায় পাবো?

ডোমেইন হোস্টিং কেনার জন্য বাংলাদেশেও অসংখ্য প্রোভাইডার আছেন যারা নিয়মিত ডোমেইন-হোষ্টিং প্রোভাইড করে থাকেন। আপনি চাইলে বাংলাদেশের যে প্রোভাইডার রয়েছেন তাদের থেকে ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করতে পারেন। অথবা আপনি চাইলে ইন্টার্নেশনাল যে ডোমেইন হোস্টিং সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছেন তাদের থেকে এই সার্ভিস ক্রয় করতে পারেন।

‘ডট কম’ ডোমেইন কেনার জন্য সর্বোচ্চ আপনাকে পেমেন্ট করতে হতে পারে ৯০০/- টাকা অথবা তার কম। তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ ‘ডট কম’ এক্সটেনশন কে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এই এক্সটেনশন কেনার জন্য আপনাকে সর্বোচ্চ পেয়ে করতে ৯০০/- কিছু কিছু কোম্পানি আছে যারা আরো কম টাকায় এটি বিক্রি করে থাকে।

‘হোস্টিং’ মূলত মেমোরি কত জিবি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। সর্বনিম্ন প্যাকেজ হতে পারে ৫০০ এমবি – ১ জিবি। আমি বর্তমানে বাংলাদেশসহ ইন্টার্নেশনাল যে তুমি হোস্টিং প্রোভাইডার রয়েছেন তারা তাদের সর্বনিম্ন প্যাকেজ তৈরি করেছেন ৫ জিবি থেকে। বাংলাদেশ থেকে আপনি ৫ জিবির একটি শেয়ার হোস্টিং প্যাকেজ কিনতে ১,০০০-১,৫০০/- পে করতে হতে পারে।

কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করে?

যেহেতু উপরে আলোচনা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কি কি সরঞ্জাম প্রয়োজন হয় সেগুলো সম্পর্কে। ডোমেইন-হোষ্টিং প্রথমত আপনার বানানটা মূলক থাকতেই হবে এছাড়া একটা ওয়েবসাইট কখনো সম্পূর্ন নয়। এবারে হোস্টিং এর সাথে ডোমেইনটি কানেক্ট করার জন্য নির্দিষ্ট হোস্টিং এর জন্য সার্ভার রয়েছে সেটি আপনার ডোমেইন এর সাথে কানেক্ট করুন অতঃপর ১-২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি কানেক্ট হয়ে গেলে আপনার হোস্টিং এর মধ্যে আপনার মেইলটির লাইভ হয়ে যাবে।

অর্থাৎ আপনার ডোমেইনটি লিখে গুগলে সার্চ করে দেখতে পারেন। অতঃপর আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য প্রিপারেশন নিতে হবে। ওয়েবসাইট তৈরীর বেশকিছু প্ল্যাটফর্ম রয়েছে- ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস, লারাভেল, ব্লগার, জুমলা সহ আরো হাজার হাজার প্ল্যাটফর্ম আপনি চাইলে সেগুলোর মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

তবে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত সিএমএস হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো প্রতিনিয়ত মানুষ ভিজিট করছে এবং দেখছে এবং এটি খুবই পপুলার একটি সিএমএস।

আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস ব্যবহার করে একটি সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। আপনি নিজে যদি তৈরি করতে না পারেন সে ক্ষেত্রে একজন ডেভেলপার এর সহায়তা নিয়ে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে একটি সাধারন ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে ডেভলপার চার্জ দিতে হতে পারে ৫,০০০/- অথবা তারও বেশি। (এটি সহজ কাজ যদি আপনি নিজে করতে পারেন তাহলে ভালো হবে)

ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার জন্য কি করব?

আজকের আর্টিকেল এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার উপায় এবং সিস্টেমগুলো সম্পর্কে জানা। এটা হচ্ছে সেই পয়েন্ট যেটা নিয়ে আমরা এখন আলোচনা করব যে কিভাবে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা সম্ভব।

মূলত, একটা ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করতে হলে সেখানে কোন একটা মাধ্যম অবশ্যই কার্যাবলী থাকতে হবে। একটা ওয়েবসাইটে কোন একটা এড নেটওয়ার্ক কিংবা ইনকামের কোন একটা সোর্স থাকতেই হবে নয়তো ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম হবে না।

লোকাল স্পন্সর, গুগল এডসেন্স, এড নেটওয়ার্ক এগুলোর কবে একটা থাকতেই হবে তাহলে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম হবে।

লোকাল স্পন্সর:

আপনার ওয়েবসাইট যদি হয়ে থাকে নিউজ পোর্টাল কিংবা অন্যান্য রিলেটেড যেখানে প্রত্যেকদিন লক্ষ লক্ষ ভিজিটার রয়েছে যারা আপনার আর্টিকেলগুলো পড়ছে সেখানে যদি অন্য কেউ তার নিজের প্রতিষ্ঠানকে প্রমোট করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান থেকে আপনাকে মান্থলি একটা পেমেন্ট করা হবে এটা আপনার এক নাম্বার ইনকাম সোর্স।

গুগল এডসেন্স:

সবগুলো গুগলের একটি পাবলিশার্স এড নেটওয়ার্ক। এরা নিয়মিত পেমেন্ট করে এবং আপনার পেমেন্ট কখনো কোনো কারণ ছাড়া আটকে রাখে না। তাদের রুলস অনুযায়ী আপনি সবকিছু মেনটেন করলে আপনার পেমেন্ট কি সঠিক টাইমে আপনার ব্যাংক একাউন্টে পৌঁছে দেয় তারা।

এড নেটওয়ার্ক:

বিভিন্ন এড নেটওয়ার্ক রয়েছে যাদের বিজ্ঞাপনগুলোর কোড এনে আপনার ওয়েবসাইটে কানেক্ট করলে তাদের বিজ্ঞাপন গুলো দেখাবে এবং সেই কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ বিজ্ঞাপন করে দেখানোর ফলে আপনাকে তারা টাকা দিবে এবং এখান থেকেই মূলত আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম।

ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার জন্য অবশ্যই প্রথমে আপনাকে এডসেন্স অ্যাপ্রুভ করাতে হবে।অ্যাডসেন্সে এপ্রুভ করার জন্য গুগলের যে রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে সেগুলো অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে থাকতে হবে।৩৫+কনটেন্ট সহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনাকে এপ্লাই করতে হবে এরপরে গুগোল সেটাকে ১৪ দিনের মধ্যে রিভিউ করে আপনাকে জানিয়ে দিবো।

অতঃপর অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পরে আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে গুগোল বিজ্ঞাপন দেখাবে এবং সেই বিজ্ঞাপন গুলো তে আপনার পাঠক প্রিয় বন্ধুরা একটা ক্লিক করা মাত্রই সেখানে ইনকাম হবে এভাবে প্রত্যেক ক্লিকে গুগল আপনাকে নির্দিষ্ট একটা ইনকাম দিয়ে থাকবে এবং এখানে যত ক্লিক হবে আপনার ইনকাম বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

►► আরো দেখো: বাচ্চাদের জন্য ইউটিউব এর ভিডিও দেখা
►► আরো দেখো: ভয়েস টাইপিং করে মনের ভাব লেখা

গুগল এডসেন্স কিভাবে কানেক্ট করব?

ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা

গুগল এডসেন্স কালেক্ট করার জন্য প্রথমে আপনার একটি জিমেইল একাউন্ট থাকতে হবে এবং সেটার মাধ্যমে আপনি একটি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিন অতঃপর আপনার ওয়েবসাইটের সাথে কানেক্ট করতে এডসেন্স এর মধ্যে থাকা যে হেডিং কোড (Header Code) রয়েছে সেটি নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের সাথে কানেক্ট করুন অতঃপর রিফ্রেশ করে দেখুন আপনার ওয়েবসাইটের সাথে এডসেন্স কানেক্ট হয়েছে কিনা কানেক্ট হয়ে গেলে আপনি পরবর্তী যে প্রসেস রয়েছে অর্থাৎ এপ্লাই প্রসেস যেটি রয়েছে সেটি কন্টিনিউ করুন।

এভাবে আপনি আপনার এডসেন্স এর সাথে আপনার ওয়েবসাইটকে কানেক্ট করে নিতে পারবেন। এছাড়াও যদি এডসেন্স কানেক্ট করার বিষয়টি সম্পর্কে আপনি অবগত না হন সেক্ষেত্রে গুগোল কিংবা ইউটিউবের সহায়তা নিয়ে আপনি কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারেন।

অতঃপর আপনার এডসেন্স একাউন্টের সাথে ওয়েবসাইট কানেক্ট হয়ে গেলে এপ্লাই করে দিন এবং সেটি গুগোল রিভিউ করে দেখবে যে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনাকে তারা কয়েকদিনের মধ্যেই অ্যাপ্রুভ করে দিবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে কিভাবে টাকা তুলব?

ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা

গুগল এডসেন্স হচ্ছে গুগলের একটি নিজস্ব এড নেটওয়ার্ক সরাসরি এখান থেকে আপনি কখনো টাকা তুলতে পারবেন না। টাকা উইড্রো কিংবা তোলার জন্য আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে। প্রথমত আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম হবে তা ইনকামের মোট ১০ ডলার ইউএসডি ($10 USD) আপনার এডসেন্স একাউন্টে জমা হলে তখন এডসেন্স এর অফিস থেকে আপনাকে আপনার যে এড্রেস রয়েছে সেখানে একটি ছয় ডিজিটের কোড পাঠানো হবে এবং সেই কোড রিসিভ করার পরে এর মাধ্যমে আপনার এডসেন্স একাউন্ট ভেরিফিকেশন করতে হবে।

অতঃপর আপনি যদি আপনার অ্যাড্রেস ভুল দিয়ে থাকেন তাহলে আবারো ৩০ দিন পরে আপনি কোড রিসেন্ট করার সুযোগ পাবেন। ৩০ দিন পরে আবার আপনি আপনার এড্রেস সুন্দর ভাবে পরিবর্তন করে এপ্লাই কিংবা রিসেন্ট করতে পারবেন। সর্বমোট আপনাকে তিনবার রিসেন্ট করার সুযোগ দিবে এর পরও যদি আপনি পিন রিসিভ করতে না পারেন তখন আপনার ‘ন্যাশনাল আইডি কার্ড’ দিয়ে ভেরিফিকেশন করে কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারবেন।

অতঃপর আপনার এডসেন্স একাউন্টে যখন ১০০ ডলার ইউএসডি ($100 USD) হবে তখন তারা অটোমেটিক আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকাটা পাঠিয়ে দিলে নির্দিষ্ট টাইমে আপনি ব্যাংক থেকে টাকাটা তুলে নিতে পারবেন। এখানে অবশ্যই পিন ভেরিফাই করার পরে এডসেন্স একাউন্টের সাথে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করার সুযোগ পাবেন।

মনে রাখবেন পিন ভেরিফাই না করা পর্যন্ত আপনি কখনো এডসেন্স থেকে টাকা তুলতে পারবেন না তাই এডসেন্স থেকে টাকা তোলার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে পিন ভেরিফাই করতে হবে। (বাধ্যকতা)

সর্বশেষ:

যদিও আমাদের আর্টিকেলটি অনেক লম্বা হয়ে গেছে। বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা করতে গিয়ে হাত তো অনেক লম্বা হয়ে গেছে অনুগ্রহ করে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা চেষ্টা করেছি একটা ওয়েবসাইট তৈরি করা থেকে শুরু করে একদম টাকা তোলা পর্যন্ত কি কি আপনাকে করতে হবে এবং কিভাবে কি করতে হবে সব বিষয়গুলো আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।

(ওয়েবসাইট তৈরি করা থেকে শুরু করে টাকা তোলা পর্যন্ত এর মধ্যে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে অনুগ্রহ করে কমেন্ট বক্সে আপনার প্রস্তুতি লিখুন আমরা যত দ্রুত সম্ভব উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব)

ওয়েবসাইট তৈরি করার পরে যে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম হতে থাকবে এমন না, এখানে অবশ্যই আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা রয়েছে। আপনার ধৈর্য কেমন তার উপর ডিপেন্ড করে আপনার অনলাইন ইনকাম। এখানে সারাদিন পড়ে থাকলে ইনকাম হবে এমন নয় আপনাকে অবশ্যই সময় ব্যয় করে আর্টিকেল লিখতে হবে অথবা সম্পূর্ণ এসইও করতে হবে।

আমরা জানি যে এসইওর মাধ্যমিক এবং মাত্র একটি আর্টিকেল গুগলের প্রথম পেজে থাকা সম্ভব তাই কিওয়ার্ড রিসার্চ করে প্রত্যেকটা আর্টিকেল লিখলে অবশ্যই ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার দিনগুলো সহজ এবং খুবই নিকটে হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.