উত্তর চরমানিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইর্শ্বনীয় ফলাফলে খাসি ভোজের আ‌য়োজন

ভোলা জেলা চরফ্যাসন উপজেলাধীন দক্ষিণ আইচা থানার ঐতিহ্যবাহী উত্তর চরমানিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত অজপাড়াগাঁয়ের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সহিত পাঠদান করে আসছে।

এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রবাদপ্রতিম একটি বাক্য জনশ্রুতি আছে যে,”দক্ষিণাঞ্চলে মানিকা হাইস্কুল লেখাপড়ায় সেরা।” এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক তুখোর মেধাবী ছাত্র – ছাত্রী বিদায় নিয়েছেন। কেউবা জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন কেউবা বুনোফুলের মতো ঝরে গিয়েছেন। শহরের বিদ্যালয়গুলোর মতো আধুনিক সুযোগ সুবিধা পেলে এখান থেকেও নিশ্চিত অনেক তারকা- মহাতারকার জন্ম হতো।

এই অঞ্চলের অধিকাংশ ছেল- মেয়রাই বিদ্যালয়ের সময়টুকুর পরে ধান রোপন, ধানকাটা, ডাল, মুগ, মরিচ তোলা, তরমুজ ক্ষেতে কাজ করা, খালে, বিলে, ঝিলে, নদীতে মাছ ধরা, ভাড়ায় হোন্ডা চালানো, মুদি দোকানে বসা, মাছ বিক্রি করা, গরু, ছাগল, মহিষ চড়ানো ইত্যাদি কাজেই ব্যস্ত থাকতে হয়। বিদ্যালাভেও যে সুফল আছে তা সম্পর্কে তদের সম্যক জ্ঞানের অভাব রয়েছে।

তাই স্রোতের বিপরীতে থেকেও বিদ্যালয়টি তার সুনাম ধরে রেখেছে। বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় আট শতাধিক ছাত্র – ছাত্রী এই প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়ন করছে।১৯৯৭ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতবছর (২০২০) থেকে বিদ্যালয়ে এসএসসিতে A+ পাওয়া শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে পেয়েছে ১১ টি A+ যারফলে এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।২০২১ সালে ১১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, ১০৩ জন পাস করেছ, পাসের হার ৯২.৭৯%. A+ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলোঃ

১.মোঃ আলাউদ্দিন আহমেদ, ২. মাইনুল ইসলাম আল নাহিদ, ৩. মোঃ পারভেজ মোশাররফ, ৪. মোঃ হামিম, ৫. মোঃ সাব্বির ৬. রোকসানা ৭. মোসাঃ মিতু ৮. সানজিদা ৯. মুন, ১০. সুমাইয়া, ১১. কুলসুম। স্বনামধন্য প্রধানশিক্ষক জনাব মোঃ নুরুল আমীন এর তত্ত্বাবধানে ২৫ শে জানুয়ারী ২০২২, রোজ মঙ্গলবার, বিদ্যালয় ও A+ পাওয়া ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় খাসি ভোজের।

আমন্ত্রণিত মেহমানবৃন্দ হলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, আলহাজ্ব জনাব আঃ বারেক বিশ্বাস, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সফিউল্লাহ হাওলাদার, মোঃ সোহাগ আকন, রফিক মিয়া, সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম শাহ, আব্দুর রহমান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ প্রমূখ।

ভোজন শেষে সবাই ছাত্র ছাত্রীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। এই অঞ্চলে বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে ঝরে যায় হাজারো শিক্ষার্থী, সেই সম্পর্কে কড়া সতর্ক বানী দিয়ে মেয়েদেরকে আঃ বারেক বিশ্বাস বলেন, যেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী সেখানে তোমরা কেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না?

মনে রাখবে বাল্যবিবাহ যাতে তোমাদেরকে শিকার করতে না পারে।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন আমার আছে ডজনখানেক সুদক্ষ শিক্ষক- শিক্ষিকা,প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার থাকলে ফলাফল আরো ভালো হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.