আল্লাহর রাস্তায় দান করার নিয়ম!

আল্লাহর রাস্তায় দান করার নিয়ম! আল্লাহর রাস্তায় দান করলে সেটা যদি আপনি মাইকিং করে দান করেন অথবা কোনো এক গরীব লোককে অল্পকিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে সেটা যদি আপনি ক্যামেরাবন্দি করে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে প্রেজেন্ট করেন তাহলে এটা কোন ধান নয় কোনো দয়া নয় এটা কেবলমাত্র লোক দেখানো মানবতা। মানবতা এমন হওয়া উচিত যে আপনি কাউকে কিছু দান করলে সেটা খুবই একান্তে খুবই গোপনে করা উচিত। এমনকি আপনি বাম হাত দিয়ে কাউকে দান করলে সেটা যেন আপনার ডান হাত না জানতে পারে এমন ভাবে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আমরা কি করি?

আল্লাহর রাস্তায় দান করার নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই অবগত অনেকেই অনেক কিছু জানে তবে জেনেও কিছু মানুষ লোক দেখানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে। লক্ষ করলে দেখা যায় শীতের মৌসুমে একজন ভিখারিকে একটা পাতলা কম্বল দিচ্ছে বেশ কয়েকজন মানুষ মিলে। এখানে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল সেই গরিব ভিখারি লোককে ডেকে নিয়ে কয়েকদিন চলার জন্য কিছু টাকা অথবা কিছু খাবার কিংবা পোশাক পরিধানের জন্য কিছু দেয়া সেটা একদম একান্ত। অথবা চাইলে সেটা একজন মানুষ তাকে লোকালয় দিতে পারতো কিন্তু সেখানে এতগুলো মানুষ জড়ো হয়ে ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করার জন্য একটা কম্বল বিতরণ করার কোন মানে আছে কি আপনার কাছে?

আল্লাহর রাস্তায় দান করার নিয়ম জানুন:

আল্লাহর রাস্তায় ইসলামের শরীয়ত মোতাবেক দান করার নিয়ম হচ্ছে খুবই একান্ত এবং খুবই গোপনে। আপনাকে এমন ভাবে দান করতে হবে সেটা যেন আপনার পাশের লোক না বুঝতে পারে অথবা আপনি যে দান করেছেন সেটা আপনি ভিক্ষুক এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ যেন বুঝতে না পারে। দাম যদি সবার গুলো কবুল হতো তাহলে যারা শহরে থাকেন যাদের কোটি কোটি টাকা আছেন যারা মন্ত্রী মিনিস্টার তাদের কোনো পাপ থাকতো না তারা প্রত্যেকদিন অসংখ্য টাকা দান করেন কিন্তু সেগুলো লোকালয় হওয়াকে হয়তো তাদের গানগুলো আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

কিন্তু দেখবেন একটা মধ্যবিত্ত ছেলে মেয়ে অথবা কোন মুরুব্বি যখন একটা গরীব মানুষকে দান করবে তখন সেটা কোন ক্যামেরাবন্দি করবে না তখন সেটা মানুষ কে লোকালয় জানিয়ে করবে না। এই বিচ্ছিরি কাজগুলো করে থাকে কেবলমাত্র ধ্বনি ফ্যামিলির তরুণ-তরুণীরা এমনকি বয়স প্রাপ্ত মুরুব্বীরাও করে থাকেন। আমাদের সমাজ আজকে এত নিচু হয়ে গেছে যা আমরা চাইলেই সহজে বোঝাতে পারছি না।

দেখবেন আপনার আশেপাশের মানুষগুলো না খেয়ে মরছে ধুকে ধুকে মরছে শীতের মৌসুমে নিজেকে প্রটেক্ট করার জন্য একটা শীতের পোশাক পরতে পারে না কিন্তু তাদেরকে দেখার জন্য কেউ নেই। তাদের কষ্টগুলো মানুষের দেখেও সেটা মালুম (পড়য়া) করে না। আমাদের মন এখন এত এত শক্ত হয়ে গেছে যেখানে আমি / আমরা মানুষকে দান করার ব্যাপারে মোটেও সহনশীল নয়। মোটেও এগ্রেসিভ না। আমাদের মন দিল এত পরিমাণে শক্ত যে আমরা মানুষের কষ্ট কখনো হাত বারাইনা।

►► আরো দেখো: জীবনের সাফল্য কোথায় থাকে?

►► আরো দেখো: সেদিন রাতের ভয়ঙ্কর আর্তনাদ

বর্তমান সমাজে যেভাবে দান করা হয়:

আমার আব্বার অনেক অনেকআল্লাহর রাস্তায় দান করার নিয়ম টাকা আছে এটা গরিব মানুষকে কয়েক হাজার টাকা দিতে আমাকে হিসাব করতে হবে না অথবা একটা গরীব মানুষকে সারা জীবন খাবার ও পোশাক দেওয়ার দায়িত্ব নিতে আমাকে কঠোর পরিশ্রম কিনবে হিসাব করতে হবে না এটা আমরা জানা সত্ত্বেও এই দায়িত্বটা গ্রহণ করি না আমরা মনে করি এই দায়িত্ব অনেক বড় কঠিন দায়িত্ব।

সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন অনেক অনেক মানুষ রয়েছে যারা অল্প কিছু দান করে সেটা ক্যামেরাবন্দি করে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে ভিডিও আকারে প্রেজেন্ট করে তুলে ধরে। শুধু এখানেই শেষ নয়, সেই ভিডিওগুলো মানুষ দেখে উৎসাহিত হয় আবার সেখানে লাভ রিয়েক্ট ভালোবাসার অনেক সরাসরি হয়ে যায়। এ বোকা মানুষগুলো জানেনা যে এটা কোন একান্ত ধান নয় এটা কেবলমাত্র মানুষ দেখানো ধান এবং সাহায্য।

বর্তমান সমাজের তরুণ-তরুণীসহ বয়স প্রাপ্ত চাচা গন, দেখবেন শুক্রবারে মসজিদে গেলে সাথে কিছু টাকা নিয়ে যায় অধিকাংশ সময় মসজিদে দান বাক্স দান করার জন্য কিন্তু সেটা একান্তে দান করে না তিনি চাইলে কিন্তু সেটা একান্ত দান করার সুযোগ পায় যেমন- চাচার নিকট যখন বাক্সটি পাঠানো হয় তখন তিনি চাইলে হাতের আড়ালে টাকা টি বাক্যের মধ্যে রাখতে পারে কিন্তু সেটা কখনো করা হয় না এখানে সরাসরি মানুষ দেখিয়ে টাকাটাকে ভাঁজ করে বাক্সের মধ্যে রাখা হয়।

আমি বলছিনা মানুষকে দান করবেন না! মানুষকে দান করেন এবং সেটা খুব একাউন্টে করেন খুব গোপনে করেন সেটা কেবলমাত্র যেন আল্লাহ দেখেন। আজকে আপনি একটা অসহায় গরীব মানুষকে দান করলেন আপনার এই দান আল্লাহর দরবারে কেয়ামতের দিন আপনার খাবার হিসেবে পাহাড় সমতুল্য হয়ে অপেক্ষা করবে। আর আপনি যদি এই গান টুকু মানুষকে দেখানোর জন্য করে থাকেন তাহলে এটা কোন ফায়দা নেই বরং এটার জন্য হয়তো আপনার গুনাহ হতে পারে।

আল্লাহর রাস্তায় দান করার নিয়ম সম্পর্কে আমরা তো সবাই মোটামুটি অবগত তার পরেও আমাকে এই আর্টিকেলটি লিখতে হল কেননা আমি বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ করছি অনলাইনে ঢুকলে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ভাবে মানুষকে সহযোগিতা করে সেটা ক্যামেরাবন্দি করে নেয় এমনকি তাকে সহযোগিতা করে তার অজান্তে ক্যামেরাবন্দি করে তার এই ভিডিওটি হাজার হাজার মানুষের সামনে প্রেজেন্ট করে এবং সেগুলো শেয়ার করে বড় মনের মানুষ হওয়ার পরিচয় দেয়।

আমরা মানুষরা কত ধরনের সলি-চক্কর করে থাকি। আমার যতটুকু সম্ভব ততটুকু দান করা উচিত এবং সেটা খুবই গোপন এবং একান্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি এবং এটা আমিও করে থাকি। আমি বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করি বাজারে, ঘাটে, ঘাটে এবং মাঠে যেখানে বিভিন্ন অসহায় মানুষকে দান করতে গেলে সেখানে একটা সেলফি তুলে নেয়া হয় সেখানে দান করা অবস্থায় অন্য একটা মানুষকে বলা হয় আমাদের একটা ছবি তুলে দেন তাহলে এটা কি কোন দান করা হচ্ছে? এ ধরনের দান আল্লাহর দরবারে কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।

►► আরো দেখো: এডস লিমিট সমস্যার সমাধান করুন

►► আরো দেখো: ঝালকাঠিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

আমাদের সহানুভূতি কেমন হওয়া উচিত?

আমাদের সহানুভূতি এমন হওয়া উচিত যে মানুষকে দান করব এবং এটা সব সময় করব এমন নয় যে আমি বেকার আমি কোন কাজ পাই না আমার নিজের চলার জন্য টাকা ফ্যামিলি দিয়ে থাকে এবং সেই টাকা দিয়ে দান করতে হবে এমন কোন বিষয় না। আপনি খাওয়ার পরে যদি পর্যাপ্ত থাকে সেটা আপনি দান করে দিয়ে দিতে পারেন এমনকি যদি খেয়াল করে দেখে অধিকাংশ ধ্বনি ফ্যামিলিতে পর্যাপ্ত খাবার থেকে যায় এবং সেটা কোন গরীব অসহায় মানুষকে না দিয়ে সেটা ফেলে দেয়া হয় যার জন্য তাদের রিজিক আল্লাহ সময় হয়তো তুলে নিবেন।

কিন্তু তাদের সহানুভূতি হওয়া উচিত এমন যে, তারা খাওয়ার পরে যে খাবার থাকবে ওই খাবারগুলো গরিব মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া। ওই খাবারগুলো অসহায় মানুষদের মাঝে পাঠিয়ে দেওয়া যাতে তারাও খেয়ে বাঁচতে পারে তারাও খেয়ে জীবন যাপন করতে পারে।

যাইহোক, এ বিষয়ে আমি অনেক বড় আর্টিকেল কিংবা কোনো প্রতিবেদন তৈরি করতে চাইনা। এইটুকু পড়ার পরেও হয়তো অনেকের মনে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য চলে আসবে আর থেকে অনেকের মনে আবার খারাপ মন্তব্য চলে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে তাই অনুরোধ করবো বিষয়টি খারাপ ভাবে না নেওয়ার জন্য বিষয়টি একটু গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য। বিষয়টি একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন ইনশাল্লাহ আপনি ভাল কিছু পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.